আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণাকে স্বাগত জানালেও জামায়াতে ইসলামী চাইছে এই নির্বাচন ‘জুলাই সনদ’কে ভিত্তি করেই অনুষ্ঠিত হোক। দলটির পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে, এই সনদকে পূর্ণাঙ্গ করা হোক এবং তা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হোক।
বুধবার রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ তাহের এসব কথা বলেন। তিনি জানান, “জামায়াত নির্বাচনের ঘোষণাকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। তবে নির্বাচনকে অর্থবহ ও টেকসই করতে হলে তা জুলাই সনদের ভিত্তিতে হওয়া প্রয়োজন।”
তিনি বলেন, “জাতির বৃহত্তর স্বার্থে এবং অভ্যুত্থানের ফসল রক্ষায় জাতীয় নির্বাচন অবশ্যই জুলাই সনদের ভিত্তিতে হতে হবে। এ সনদকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।”
ঘোষণাপত্রকে ‘অপূর্ণাঙ্গ’ অভিহিত করে জামায়াত অভিযোগ করেছে, বড় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই এটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। এতে ইসলামী ঘরানার রাজনীতির অবদান, বিশেষ করে ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের প্রসঙ্গ উপেক্ষিত বলেও তারা মন্তব্য করেছে।
সৈয়দ তাহের আরও বলেন, “ঘোষণাপত্রে উপনিবেশবিরোধী লড়াইয়ের কথা বলা হলেও ১৯৪৭ সালের ভাষা ও অধিকারভিত্তিক স্বাধীনতা সংগ্রামের কথা অনুল্লিখিত রয়ে গেছে। এতে নির্দিষ্ট শ্রেণির দৃষ্টিভঙ্গি প্রাধান্য পেয়েছে, যা জাতীয় ঐক্যের বদলে বিভাজন তৈরি করতে পারে।”
জামায়াতের পক্ষ থেকে ‘পিআর পদ্ধতি’তে (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়ে বলা হয়, “পুরানো নির্বাচন পদ্ধতি বর্তমান বাস্তবতায় কার্যকর নয়। গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিতে রাজনৈতিক ঐক্য, সংলাপ ও সমঝোতা অপরিহার্য।”